কৈখালীতে ইয়াছিন ও মাছুম কর্তৃক মুন্ডা সম্প্রদায়ের উপর মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগ
রাকিবুল হাসান শ্যামনগরঃ
শ্যামনগর উপজেলার কৈখালীতে ইয়াছিন ও মাছুম কর্তৃক আদিবাসী মুন্ডা সম্প্রদায়ের উপর মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগ প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ৷
প্রতিবাদ সমাবেশ মুন্ডা সম্প্রদায়ের ধনুঞ্জয়, সঞ্জিত,
বিশ্বজিৎ, কর্ন বলেন,
গত ২০১৯ সালের প্রথমে কিরোন মুন্ডার ছেলে ধনুঞ্জয়, সখি চরন মন্ডার ছেলে সঞ্জিত মুন্ডা, ওমো চরণ মুন্ডার ছেলে কর্ন মুন্ডা, রতিন মুন্ডার ছেলে বিশ্বজিৎ মুন্ডা সহ ১৮ জনকে গোপালগঞ্জের মনজু মোল্লার ইট ভাটায় নিয়ে যায় সরদার আমিন উদ্দিন গাজীর ছেলে ইয়াছিন ও মাছুম ৷ এই ১৮ জনের মধ্যে আলাদা আলাদা ব্যক্তির কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্প নিয়ে কেউ টাকা নেয় আবার কেউ নেয় না এভাবে তাদেরকে ইট ভাটায় নিয়ে যায়৷
খাওয়া দাওয়া, অত্যাচার সহ টাকা লেনদেনের সমস্যা কারনে আলাদা আলাদা ভাবে ১৮ জনই সবাই ফিরে আসে ৷ এই নিয়ে ১৯ সালের শেষে ভোলা জেলার বোরহান উদ্দিন থানায় আব্দুল্ল্যাহ নামের একজন ব্যক্তি এদের কাগজপত্র নিয়ে একটি মামলা দ্বায়ের করেন ৷ যার মামলা নং ৪৮/২০ ৷
ধনুঞ্জয়রা মামলার ভয়ে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে মৃত এছার উদ্দিন গাজীর ছেলে ফারুক গাজীর মাধ্যমে কর্ন মুন্ডার মিমাংসা করেন, মির আলী গাজীর ছেলে আঃ মজিদের মাধ্যমে ধনঞ্জয়ের মিমাংসা করেন, ফকির আহমেদের ছেলে আঃ সাত্তারের মাধ্যমে বিশ্বজিৎ, মিজান, রতিন মুন্ডা, মেকাইলের মিমাংসা করেন ৷ আজম মোল্লার ছেলে ফজলু মোল্লার মাধ্যমে হোসেন আলীর মিমাংসা করেন, সোনার মোড় ইট ভাটা সমিতির সভাপতি শাহিনের মাধ্যমে সঞ্চিত মুন্ডার মিমাংসা করেন, রুহুল আমিন ডাক্তার ও আব্দুর রশিদ গাজীর মাধ্যমে মৃত অফেসজ উদ্দিন গাজীর ছেলে কাওছার গাজীর মিমাংসা করেন ৷ এভাবে আলাদা আলাদা ভাবে সবার মিমাংসা করে গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে ৷ কিন্তু সবাই মিমাংসার ক্ষেত্রে মামলা তুলে নেওয়ার আশ্বাস দেন ৷ পাশাপাশি সবার বাড়ি হওয়ায় সরল বিশ্বাস এই মুন্ডা সম্প্রদয় মামলা না তুলে মিমাংসা করে নেন ৷
গত ৮ আগষ্ট ২০২২ তারিখ সোমবার পাশাপাশি বাড়ি হওয়ার কারনে কথা কাটার একপর্যায়ে ঠেলাঠেলি হলে সঞ্জিত কৈখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিমের কাছে একটি লিখিত সালিশের আবেদন করেন ৷ আবেদনের প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান গত ১৩ আগষ্ট ২০২২ তারিখে বসাবসির জন্য উভয় পক্ষকে জানালে ইয়াছিন ও মাসুম হাজির হয় না ৷ পরে ইউনিয়ন পরিষদের মিমাংসাকে অবজ্ঞা করে পূনরায় গত ১৪ আগষ্ট ২০২২ তারিখে মাছুমের স্ত্রীর গহনা ও শীলতাহানির অভিযোগ তুলে শ্যামনগর থানায় একটি অভিযোগ দ্বায়ের করেন ৷ যার প্রেক্ষিতে শ্যামনগর থানার এএসআই তরিকুল ঘটনার তদন্ত করেন ৷
এএসআই তরিকুল বলেন, আসলে মুন্ডা সম্প্রদয়ের ঘটনা সঠিক ৷ কিন্তু বাদীপক্ষের অভিযোগটার বিষয়ে জানলাম ঐদিন মারামারির ঘটনা ঘটেছে ৷ চেয়াম্যানকে অবগত করবো যাতে তাদের বিষয়টি মিমাংসা করে দেন ৷ কৈখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম ঘটনার সততা নিশ্চিত করেন ৷
সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক
কৃষ্ণপদ মুন্ডা বলেন, ঘটনাটি জানি, ঘটনার মিমাংসা হওয়ার পরও তারা মামলাটি তুলে নেয়নি ৷ পরে দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় বিষয়টি আমি খোঁজ নিতে পারেনি বা তারাও আমার স্বরনাপন্ন হয়নি ৷

0 Comments