Header Ads Widget

Responsive Advertisement

লালপুরে জীবন বাঁচাতে একসঙ্গে লড়ছেন দুইবোন//Two sisters are fighting together to save life in Lalpur-padma news 24


 

লালপুরে জীবন বাঁচাতে একসঙ্গে লড়ছেন দুইবোন



এ জেড সুজন মাহমুদ, নাটোর লালপুর প্রতিনিধির পাঠানো ভিডিও চিত্র ও তথ্য নিয়ে দেখুন বিস্তারিত। 


 নাটোরের লালপুর উপজেলার আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশনে চা বিক্রি করেন মুন্নি আক্তার (৩৮) ও শাহিদা আক্তার (৩৬)। সম্পর্কে দুই খালাতো বোন তারা। একজনের পাঁচ বছর আগে স্বামী হারিয়েছেন অন্যজন স্বামী পরিত্যক্ত। জীবন বাঁচাতে একসঙ্গে লড়ছেন এই দুইবোন। বৃদ্ধ মাসহ পরিবারের ৭ সদস্য নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছিল তাদের জীবন। সারাক্ষণ ভাবতেন নিজে কিছু একটা করবেন। কিন্তু অর্থের অভাবে পেরে উঠছিলেন না। পরে একটি বেসরকারি এনজিও থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কেনেন সেলাই মেশিন। সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানো শুরু। সেলাই মেশিন থেকে অল্প অল্প করে আয়ের টাকা জমিয়ে আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশনে আশ্রয় নিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতা ঠেলে একসাথে চা বিক্রি শুরু করেন। এভাবেই তাঁদের সংসারে ফিরতে শুরু করে সচ্ছলতা।


এবিষয়ে মুন্নি আক্তার ও শাহিদা আক্তার জানান, মেয়ে হওয়ার ৩ বছর পরই স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তখন বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। দুই বোন আর এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় বাবা আর ভাই একসাথে মারা যান, আর দূর্ঘটনায় আহত মা সুস্থ হয়ে ফেরেনি এখনো। ছোট্ট মেয়ে আর অসুস্থ মাকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। 

শাহিদা আক্তার ২০০৮ সালে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর ফিরে আসেন বাবার বাড়ি। তার কিছুদিন পরই স্বামী হারান তিনি। আর তার ভাইয়ের ছেলে ৩ মাস বয়সে মাকে হারান এবং তার স্বামী হারা বিধবা বোনের এক ছেলেসহ ২ সন্তানকে পালক নিয়ে শুরু হয় তার বেঁচে থাকার সংগ্রাম। বৃদ্ধ মাসহ সংসারের বোঝা তাঁর কাঁধে এসে পড়ে। একটা সময় অর্থ সংকটে সংসারটা কোনোভাবেই চলছিল না। তারপর এক বেসরকারি এনজিও থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সেলাই মেশিন কেনন। সেলাইয়ের কাজ করে কোনমতে সংসার চালাচ্ছিলেন। পরে খালাতো বোন মুন্নির পরামর্শে যৌথভাবে ৬ বছর আগে ব্যবসা শুরু করেন।

তারা দুইজনই জানান, এই দোকান থেকে তাদের প্রতিদিন আয় ৫০০-৭০০ টাকা। এটাকা ভাগাভাগি করে সংসার চালান তারা। এ আয় থেকে ছেলে মেয়েদের স্কুলের খরচ সহ মেটান আনুষঙ্গিক সব খরচ। সব মিলিয়ে জীবন সংগ্রামে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ভালো আছেন। তবে চিনিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে বিপাকে পড়েছেন তারা সরকারের কাছে আকুল আবেদন তাদেরকে যেন আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হয়।


Post a Comment

0 Comments