Header Ads Widget

Responsive Advertisement

হরিনণ শিকারীরা মেতে উঠেছে হরিন শিকারে । সুন্দরবনের প্রাণী জীববৈচিত্র হারতে বসেছে।padma news 24


 

সুন্দরবনের হরিনণ শিকারীরা মেতে উঠেছে হরিন শিকারে।

 

রাকিবুল হাসান শ‍্যামনগর ঃ

সুন্দরবনের হরিণ শিকারে মেতে উঠেছে চোরা শিকারিরা। নির্বিচারে মারা হচ্ছে সুন্দরবনের চিত্রা হরিণ।কোন ভাবেই যেন থামছে না তাদের এ কর্মযোগ্য।এভাবে যদি প্রতিনিয়ত শিকারিদের হাতে হরিণ মরতে থাকে তাহলে প্রাণী সংকটে পড়বে সুন্দরবন। 


কিছু অসাধু ব্যক্তিদের কারণে সুন্দরবনের প্রাণী জীববৈচিত্র হারতে বসেছে। বনবিভাগের কঠোর নজরদারি থাকলেও তা মানছে না শিকারি চক্র। এসকল হরিণ শিকারিরা স্থানীও কিছু রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে এ ধারনের কাজ করে থাকে। হরিণ শিকারিদের বড় একটা সিন্ডিকেট রয়েছে। 

মূল শিকারিরা সুন্দরবনের ভিতর থেকে হরিণ এনে শহরের উপরে থাকা সহযোগীদের হাতে পৌঁছে দেয়।সেখান থেকে বিভিন্ন জায়গায় হাত বদল হয়ে থাকে।সাধারণত শীতের শুরুতে সক্রিয় হয়ে উঠে চোরা হরিণ শিকারিরা।প্রতিনিয়ত গভীর সুন্দরবন থেকে ফাঁধ পেতে ও চোরাই  বন্দুক দিয়ে হরিণ শিকার করছে শিকারিরা। এসকল পেতে রাখা ফাঁধে অনেক সময় বাঘ সহ সুন্দরবনের অন্যন্য প্রাণী বেধে মারা যায় বলে জানাযায়। 


সুন্দরবনের কালির চর থেকে শিকারিদের ফাঁধে শিকার হয়ে পড়ে থাকা একটা হরিণের ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সংবাদ কর্মীর হতে পৌছায়। সেখানে দেখা গেছে হরিণের গায়ে ফাঁদে বেঁধে থাকা অবস্থায় পড়ে থাকতে। কালির চর, আগ্রাকোনা বালীঝাকি ফিরিঙ্গী চোরা মেঘনা

পাতকোষ্টা,কাগা,পাগড়াতলি,তালতলী,ইলসেমারি, মানিক চোরা,কাছিকাটা,খলিশাবুনিয়া এসকল এলাকায় হরিণের সংখ্যা বেশি থাকায় শিকারিদের লক্ষ্য থাকে এচর ঘিরে।এমনকি সুন্দরবনের ভিতর থেকে হরিণ জবাই করে আনার ছবিও দেখা যায়। 

রিতিমত প্রশাসনের সাথে চিন্হিত হরিণ শিকারি সদস্যদের সক্ষাথাও মেলে ছোখে পড়ার মত। তাদের সাথে চুক্তিতে হরিণ শিকারে নেমে পাড়ে শিকারিরা। অভিনব পন্থায় বনবিভাগের দালালদের মাধ্যমে বনবিভাগের কাছ থেকে বৈধ অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে চোরা শিকারির। যে কারণে হরিণ শিকার করে পার পেয়ে যাচ্ছে চোরা শিকারিরা। বনবিভাগের সদস্যরা হরিণ শিকারিদের ধরতে অভিযানে যাওয়ার আগে খবর পেয়ে সর্তক  হয় চক্রটি। বনবিভাগের অভিযানে হাতে নাতে কয়েকটি পাচারকারি সহ চোরাকারবারিদের যানবহন আটক করলেও। আইনের ফাকফোকড়ের মধ্যে দিয়ে বের হয়ে এসে। আবারও নেমে পড়ে হরিণ শিকারিতে। 

সম্প্রতি গত ৭-৮ জানুয়ারীতে অভিযান চালিয়ে সুন্দরবনের খৈলসেবনিয়া,তেরকাটি,মহাসিন সাহেবের হুলা থেকে হরিণ মারা ৬০ ফাঁধ উদ্ধার করে।সাতক্ষীরা রেন্জ বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী ২০২১-২৩ সালে হরিণ শিকারের অপারাধে ১৪ টি মামলা দেওয়া হয়।এ মামলায় ৩৩ জন আসামি সহ ৮৩ কেজি মাংস ও ৬৯৯ টা হরিণ মারা ফাঁধ উদ্ধার করে।সাতক্ষীরা রেন্জের তথ্য অনুযায়ী বনবিভাগের কাছে হরিণ শিকারিদের ৪ ষ্টেশনে ১০৮ জনের একটা তালিকাও রয়েছে। তার মধ্যে কোবাদক ষ্টেশনে ৩০ জন, বুড়িগোয়ালিনী ষ্টেশনে ৪২ জন, কদমতলা ষ্টেশনে ২০ জন,  কৈখালী ষ্টেশনে ১৬ জন। তালিকা ছাড়াও আরো অনেকে হরিণ শিকারের সাথে জড়িত রয়েছে বলেও জানাযায়।এছাড়া হাতেনাতে ধারা যায় না বলে কোন ব্যাবস্থাও নিতে পারেন বলে জানান বনবিভাগ কর্মকর্তা।চোড়া দামে হরিণের মাংস বিক্রয়  হওয়ার কারণে ক্রেতাদের বিশ্বাস করাতে চোরা শিকারিরা জীবান্ত হরিণ শহরের পারে এনে ক্রেতাদের সামনে করা জবাই । জবাই করা হরিণের ছবি তুলে বাইরের ক্রেতাদারে কাছে পাঠানো হয় বিশ্বাসের জন্যে। যে কারণে হরিণের মাংসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানাযায়, এ মাংস নেওয়া থেকে বাদ পড়ছে না প্রশাসনের কর্মকর্তারাও

চোরাকারবারিরা হরিণ শিকার করে নিরাপদ রুট হিসাবে ব্যাবহার করছে। সাতক্ষীরা রেন্জের ৪ ষ্টেশনের আওয়াতাধীন কোবাদকের গোলখালি, গাড়িলাল বাজার, গাবুরা নাপিত খালি, বুড়িগোলিনীর ষ্টেশনের গাবুরার ৯ নং সরা, ডুমুরিয়া, ১৪ রশি,দাতিনাখালির মহসিন সাহেবের হুলা ও চেয়ারম্যান মোড়। কদমতলার ষ্টেশনের মুন্সীগন্জ মৌখালী, সরদার বাড়ি, হরিনগর বাজার ও চুনকুড়ি। কৈখালী ষ্টেশনের পাশ্বেখালি, টেংরা খালি, কালিন্জি, ভেটখালি ও কৈখালী সহ চোরা শিকারিদের সুবিধা মত রুট ব্যাবহার করে থাকে। পরিবহন হিসাবে মটর সাইকেল,প্রাইভেট কার ব্যাবহার করে থাকে।

বুড়িগোয়ালিনি স্টেশন কর্মকর্তা নুরুল আলম বলেন, আমরা হরিণ শিকারিদের ধরতে সব সময় অভিযান পরিচালনা করছি। বনের ভিতর থেকে হরিণ মারা অনেক ফাঁধ উদ্ধার করেছি। 

 সাতক্ষীরা রেন্জ কর্মমকর্তা ইকবাল হোসাইন চৌধুরি বলেন, আমার সব সময় সজাগ আছি। বিশেষ করে হরিণ শিকারিদের কোন ছাড় দেওয়া হবে না। সঠিক তথ্য পেলে তাদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। কায়েকটা হরিণ শিকারিকে আটক করে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে।


Post a Comment

0 Comments