শ্যামনগরে কৈখালী ইউনিয়নের এস,আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনির কর্মচারী নিয়াগে অর্ধকাটি টাকার অর্থ বানিজ্যর অভিযাগ উঠেছে।
টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বেরিয়ে এসেছে থলের বিড়াল।
সাংবাদিক রাকিবুল হাসান শ্যামনগর ঃ
শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের এস আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী নিয়োগে অর্ধকোটি টাকার অর্থ বানিজ্যর অভিযোগ উঠেছে এদিকে টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল।এদিকে
নিয়োগ বোার্ডর ৪ জন সদস্যর মধ্য শেখ আলী মর্তুজা অভিযোগ তুলে বলেন, গত ১৩ জানুয়ারি ২০২২ তারিখ পত্রিকায় নিয়াগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী ১জন কম্পিউটার ল্যাব সহকারী, ১জন অফিস সহায়ক, ১জন নৈশপ্রহরী,১জন আয়া পদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পর১৩ ফব্রুয়ারী ২০২২ তারিখ রবিবার সকাল ১০ টায় এসব পদে অনুকুলে আবেদনকারীদর যথারীতি লোক দেখানো পরীক্ষা নেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, নিয়োগ বোর্ডে কম্পিউটার ল্যাব সহকারী পদ পশ্চিম কৈখালী গ্রামের মোঃ জাহিদ হাসান,অফিস সহায়ক পদ দীলিপ কুমার মিস্ত্রি, নৈশপ্রহরী নিমাই চাঁদ মন্ডল এবং আয়া পদ মিনতি রাণী এই ৪ জনের সাথে চুক্তির মাধ্যমে ৫২ লাখ টাকার অর্থের বিনিময়ে আগে থেকে চুড়ান্ত করা রাখা হয়। এই ৫২ লাখ টাকা আলাদা আলাদা ভাবে এস,আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট দেওয়ার সময় উক্ত বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও উক্ত নিয়োক বোর্ডের সদস্য আলী মর্তুজা শয়ং নিজে উপস্তিত ছিলেন বলে দাবী করছেন। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বিভিন্ন উপর মহলে দেওয়ার নাম করে ২৬ লাখ টাকা, সাংবাদিকদর জন্য ২০ হাজার টাকা এবং বিভিন খরচ দেখিয়ে ২৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বাকী টাকা উপজেলা শিক্ষা অফিসার নুর মাহাম্মদ তেজারত ও জেলা শিক্ষা অফিসার ডিজির প্রতিনিধি এবং প্রধান শিক্ষক সহ নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা ভাগবাটায়ারার করে নেন বলে জানাগেছে। দীর্ঘ ৫ মাস পর যখন এই সব কর্মচারীরা বেতন পাওয়া শুরু করেছেন। এর মধ্য শেখ আলী মর্তুজা জানতে পারেন বিদ্যালয়ের সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম ঐ ২৬ লাখ টাকা উপর মহলের নাম ভাঙ্গিয়ে তিনি নিজেই আতসাৎ করেছেন। এই নিয়ে ফুস উঠেছেন শেখ আলী মর্তুজা। সরাসরি ৩০ জুলাই ২০২২ তারিখ সকালে এস,আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে রিতিমত কইফৎ তলব করেন প্রধান শিক্ষকের নিকট।
অন্যদিক আয়া পদ দরখাস্তকারী মারুফা বেগম নামের এক প্রার্থীর আবেদনপত্র বাতিলপূর্বক পরীক্ষা কেন্দ্র তাকে উপস্থিত হতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযাগ পাওয়া গেছে।
স্বছভাবে নিয়োগের প্রচারনা চালিয়েঐসব পদের জন্য কয়েকজন আবেদন করেছিলেন। আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় লিখিত সহ মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিত চুড়ান্ত ভাবে নিয়াগের জন্য প্রার্থী বাছাইয়ের ঘোষণাও দেন উক্ত বিদ্যালয়ের কৃর্তপক্ষ। নিয়োগ পরীক্ষায় সকল পরিক্ষার্থীদর উপস্থিত হয়ে উক্ত নিয়োগ পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই চুড়ান্ত হয়ে যান অর্ধকাটি টাকার বিনিময়ে। ভাগাভাগি ঠিক করা নিয়াগ প্রাপ্ত চারজনর নাম। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক ৪টি পদের জন্য ৫২ লাখ টাকার চুক্তিত চারজনকে চুড়ান্ত।নিয়োগে প্রক্রিয়া অনুসরণের অংশ হিসাবে আবেদনকারী প্রার্থীদর পরীক্ষা নেওয়া ও দিন ধার্য্য করা ৪জন প্রার্থীর বাড়ীতে প্রবেশপত্রও পাঠায় দেন।
প্রধান শিক্ষকের প্রস্তাব সাড়া না দিয়ে এবং চাহিদা মত টাকা দিত সম্মত না হওয়ার কারনে বাকী প্রার্থীদর প্রবশপত্র না দিয়ে মোবাইলে তাদের ডাক দিয়ে পরীক্ষার ৩০ মিনিট পূর্ব প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে বলা হলে প্রার্থীরা প্রবেশপত্র সংগ্রহ করননি। রেশমা, আসমা, মারুফা বেগম সহ কয়েক জন আবেদনকারী পরীক্ষা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার আগে বিষয়টি জেনে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মহাদয় ও শ্যামনগর উপজলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযাগ দ্বায়ের করলেও তার কোন ফল আসেনি। এ যেন কেঁচো খুঁড়তে সাপ, জানাগেছে এর আগেও গত২১ নভেম্বর ২০২০ তারিখে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গত ২৪ জানুয়ারী ২০২১ তারিখে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরিকল্পনা অনুযায়ী ৭ লাখ টাকা দেনদরবারর মাধ্যমে শেখ সালাউদ্দিন আহমদকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই ৭ লাখ টাকাও আতসাৎ করেছিলেন সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক। এ বিষয় নিয়োগ বাতিল চেয়ে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ সিনিয়ার জজ আদালত-১ এ পশ্চিম কৈখালী গ্রামের মুক্তিযাদ্ধা ছমির উদ্দীনের ছেলে জাকির হােসেন একটি মামলা দ্বায়ের করেছন।
বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাসার ভীত-হয়ে সরাসরি বলেন, আমি কিছু জানি না। সভাপতির সাথে কথা বলেন।বিদ্যালয়ের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান জিএম রেজাউর করিম বলেন, আমি টাকা নিয়েছি কেউ বলতে পারবো না। এখানে কোন লেনদেন হয়নি। কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম বলন, কৈখালী এস,আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়র সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক যোগসাজে নিয়োগের নাটকীয়তা করে ৫২ লাখ টাকা হাতিয নিয়েছে। এর আগেও প্রতি নিয়াগে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযাগ আছে আমার কাছে।
খুলনা বিভাগীয় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এসএম আব্দুল খালক বলন, লিখিত অভিযাগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাংবাদিক

0 Comments